সাগরপাড়া, ঘোড়ামারা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী
00721772779
রাজশাহীর প্রাচীনতম স্কুলগুলোর অন্যতম এটি।১৮৯৮ সালের ১২ জুলাই রাজশাহী একাডেমী নামে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় রাজশাহী ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর হিন্দু একাডেমীর। রাজশাহী মহানগরীর তৎকালীন প্রথিতযশা আইনজীবী অনুকূল চন্দ্র চক্রবর্ত্তী ও সুদর্শন চক্রবর্ত্তীর প্রচেষ্টায় এবং চন্দ্র কিশোরের সহযোগিতায় ১৮৯৮ সালের ১২ জুলাই মিয়াপাড়ার রাজশাহী গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণের ভিতর একটি ঘরে রাজশাহী একাডেমী আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ১৯০০ সালে একাডেমী জামিদার রায় বাহাদুর কুঞ্জ মোহন মৈত্রের ঘোড়মারার বাড়ির একটি অংশে স্থানান্তর হয়। পূর্বে বাড়িটি মাড়োয়ারী দেবীদাস বাবুর ঠাকুরবাড়ি ছিল। কুঞ্জ মোহন মৈত্র বাড়িটি ক্রয় করেছিলেন। একই বছরে একাডেমী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন এবং ছাত্ররা প্রথম প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছিল। যারা এ একাডেমী থেকে প্রথম প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের অ্যাডভোকেট রমেশ চন্দ্র বাগচী। নাটোর জেলার খাজুরা গ্রামের সে সময়ের জমিদার জীবন্তীনাথ খাঁ এবং জ্ঞানেন্দ্রনাথ খাঁ একাডেমীকে সুপ্রতিষ্ঠিতকরণে বিপুল অর্থসাহায্য করে এই বিদ্যালয়ের নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ফলে বিদ্যালয়ের পূর্ব নাম পরিবর্তন করে তাঁদের পিতা জমিদার ভোলানাথ খাঁর নামানুসারে ভোলানাথ একাডেমী রাখা হয়। ১৯০২ সালে চক্রবর্ত্তী ভ্রাতৃদ্বয় মেদিনীপুর জমিদারী কোম্পানীর নিকট থেকে বড়কুঠি অঞ্চলের বেশ কিছু জমি ক্রয় করে ছাত্রাবাসসহ একাডেমীটির বিশাল অবকাঠামো নির্মাণ করেন। ১৯২৯ সালের শেষের দিকে জীবন্তীনাথ খাঁ ও জ্ঞানেন্দ্রনাথ খাঁ একাডেমী পরিচালনার যাবতীয় দায়িত্ব অনুকূল চক্রবর্ত্তী ও তাঁর জীবনাবসানে তাঁর উত্তরাধিকারীদের নিকট অর্পণ করেন। ১৯৩৫ সালে চক্রবর্ত্তী ভাতৃদ্বয় তাঁদের স্বর্গীয় পিতা বিশ্বেশ্বর চক্রবর্তীর নাম একাডেমীর সঙ্গে যুক্ত করেন। ফলে একাডেমীর নাম হয় ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর একাডেমী। ১৯৩৯ সালে একাডেমী পরিচালক মণ্ডলীর প্রস্তাবানুসারে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য আজিজুল হকের অনুমোদন লাভ করে একাডেমীর সঙ্গে হিন্দু কথাটি যুক্ত হয়। ফলে এর নাম হয় ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর হিন্দু একাডেমী।